We are available at

ব্লাড প্রেসার থেকে কীভাবে বাঁচবেন?

প্রেসার প্রকৃত পক্ষে কী ও কেন?
  
লিখছেনঃ— ডাঃ  ইয়ার আলী
                  MBBS(WBUHS), GDMO( WBHS)
                  Medical Officer       
     ( RashidpurRural Hospital)

  আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে আমাদের সমাজে প্রেসার বা হাইপারটেনশন অসুখটি অনেক কম ছিল — আজকের তুলনায়! আগেকার দিনে আমাদের কতকগুলি ধারণা এমন ছিল—
১) বয়স ৬০ বা তার উর্ধ্বে না হলে প্রেসার হয়না অথবা প্রেসার অসুখটি বয়স্ক লোকের হয়৷
২) প্রেসার হলে ব্রেনস্ট্রোক, হার্ট এটাক প্রভৃতি নানাবিধ পরিণতি হয়ে মৃত্যু অবধারিত!
৩)প্রেসার অল্প বয়স বা কম বয়সের অসুখ না!

কিন্তূ, বর্তমানকালে আমি বা আমরা যারা ডাক্তার , তারা লক্ষ্য করি—বয়স বিশ হলেও অনেক এমন ছেলে বা মেয়ে দেখা যায়; যারা প্রচন্ড প্যালপিটেশন, পারশপিরেশন, হেডেক, ডিপ্রেশন, ইণসমনিয়া, লেগ ক্রামপ্স,ওবেসিটি, ডিসপেপসিয়া, মেন্টাল ফগ, ফ্যাটিগ, লেথার্জি প্রভৃতি নানারকম পিক্যুইলিয়ার সিম্পটমস্ নিয়ে হাসপাতালের এমার্জেন্সি বা ক্লিনিকে আসেন৷ অনেক ক্ষেত্রেই এদের প্রেসার বেশী পাওয়া যায়৷ এইরকম সমস্যা সামনে যতদিন এগিয়ে আসবে—ততই বাড়বে৷ অথচ, এই রোগীদের কিডনি বা হার্ট দুটোই ব্লাড রিপোর্টে ঠিক আছে( ইসিজি, সিপিকে এমবি, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন)৷

খেয়াল করুন—প্রেসার রোগটি আগামী প্রজন্মের জন্য বা বর্তমান প্রজন্মের জন্য বয়সটা কোন ফ্যাক্টরই নয়! যে কোন বয়সে, যে কোন লিঙ্গের ক্ষেত্রে প্রেসার রোগটি পরিলক্ষিত হচ্ছে!
এটা খুবই দুঃশ্চিন্তার বিষয়!
আমরা এর প্রকৃত কারণ যদি এখনই ব্যাপকহারে প্রচার ও প্রসার না করি, তবে আগামী প্রজন্ম বহুলাংশে প্রেসারের মত গোপন ঘাতক থেকে রেহাই পাবেনা৷

এই উদ্যেশ্য ও মহান আল্লাহর সন্তূষ্টি অর্জনের মানসে— আজকের এই সংক্ষিপ্ত লিখাটি৷

“প্রেসার” এর আক্ষরিক অর্থ হল -চাপ বা বল৷ শরীরি পরিভাষাতে বা মেডিক্যাল পরিভাষাতে — যে বল বা চাপে ধমনী বা শিরাতে রক্ত চলাচল করে—তাকে ব্লাড প্রেসার বলে৷ হার্টের বিভিন্ন চেম্বার, বড় থেকে ছোট ধমনী — এর দিকে যত এগোবেন প্রেসার তত কমবে৷ অর্থাৎ যে ধমনী যত হার্টের কাছাকাছি তার মধ্যে রক্ত সন্চালনে বেশী বল প্রয়োগ করতে হয়৷ আবার যে শিরা যত দূরে (হার্ট থেকে) তার চাপ বেশী হয়৷

হার্ট(লেফ্ট ভেন্ট্রিকল এবং লেফ্ট এট্রিয়াম)>বড় ধমনী>মিডিয়াম ধমনী>ছোট ধমনী>ক্যাপিল্যারি>চোট শিরা>মিডিয়াম শিরা>বড় শিরা>হার্ট( রাইট ভেন্ট্রিকল এবং রাইট এট্রিয়াম  —— মুটামুটি এই রকম বিন্যাসে চাপের তারতম্য থাকে ৷ফলে, হার্ট শিরার মধ্য দিয়ে গোটা দেহ থেকে রক্তকে টেনে হার্টে নিয়ে যায় এবং সেই রক্তকে ধমনীর মাধ্যমে গোটা দেহে ছড়িয়ে দেয়৷  ( পালমোনারী আর্টারি ও ভেন—এখানে বিবেচ্য হচ্ছেনা) ৷ অর্থাৎ হার্টের মূল ও মূখ্য কাজ হল— পাম্পিং করে দেহের সর্বত্র রক্তকে সন্চালিত রাখা৷ ঠিক যেভাবে যে কোন পাম্পিং মেশিন মিটির নিচ থেকে জল তুলে ও উপরে উঠায়৷ আমারা সাধারনতঃ বাহুর মধ্য দিয়ে যে আর্টারি( কিউবিটাল বা রেডিয়াল) যায়—তার প্রেসারটাকে স্ট্যান্ডার্ড করে নিয়ে কাজ করি৷ হার্ট যখন স্বাভাবিকভাবে স্বাচ্ছন্দে কাজ করে তখন এই দুই জায়গাতে সাধারনতঃ ১২০/৮০ mmHg চাপ থাকে৷ এক্ষনে, যদি এই চাপ বেশী হয় , তবে বুঝতে হবে— হার্টকে স্বাভাবিকের থেকে বেশী বল প্রয়োগ করে এই রক্ত সন্চালনের কাজটি করে যেতে হচ্ছে৷ হার্টকে যত বেশী বল প্রয়োগ করতে হবে —এই সন্চালনের প্রক্রিয়াটিকে সচল রাখতে, যে কোন আর্টারি বা ভেনে প্রেসার বাড়বে৷ কিউবিটাল বা রেডিয়াল আর্টারীর প্রেসারও বাড়বে৷

এখন, আপনাকে জানতে হবে— কী এমন হল যে, হার্টকে বেশী বল প্রয়োগ করে গোটা দেহে রক্ত সন্চালনটা করতে হচ্ছে? যে রক্ত আগে ১২০/৮০ mmHg তে দিব্যি সন্চালিত হচ্ছিল— সেই রক্তকেই সন্চালিত রাখতে হার্টকে বেশী বল প্রয়োগ করে পাম্পিং করতে হচ্ছে? কেন এমন হল?

এর উত্তরের মধ্যেই সমস্যার উৎপত্তি, সমাধান, বেঁচে থাকার পথ—সবই খুঁজে পাবেন৷

চলুন, তার আগে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে প্রেসারটাকে আরও সহজভাবে বুঝাই৷

ধরুন, একই সাইজের, একই উচ্চতা ও ব্যাসের তিনটি স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস আপনার সামনে রাখলাম৷ একটা গ্লাসে জল, একটা গ্লাসে দুধ ও একটা গ্লাসে ম্যাঙ্গোজ্যুস একই পরিমাণে(আয়তন) ঢাললাম৷ তিনটি গ্লাসেই তিনটি একই রকম ‘স্ট্র’ দিলাম৷
এখন , আপনাকে মুখ দিয়ে তিনটি গ্লাস থেকেই তিনরকম লিক্যুইড টানতে বললাম৷

এবার বলুন, আপনাকে কোন লিক্যুইডটা টানতে বেশী বল প্রয়োগ করতে হল??

অবশ্যই বলবেন—ম্যাঙ্গোজ্যুস৷
কারণ, ম্যাঙ্গোজ্যুসের ঘনত্ব এখানে সবচেয়ে বেশী৷ বাঃ , এটা আপনি চমৎকার বুঝলেন!

ঠিক তেমনিভাবেই, আমাদের দেহের লিক্যুইডটা বা রক্তটাকে হার্ট টেনে নিয়ে আসছে ও ছড়িয়ে দিচ্ছে৷ তাহলে, এই টানা ও ফেলাটা হার্টের জন্য বেশী কষ্টকর কখন হবে? বা কখন বেশী বল প্রয়োগ করে এই টানা-ফেলার কাজটা করতে হবে?

নিশ্চয়, ব্লাড যখন “ঘন” হবে৷ ব্লাডের স্বাভাবিক ডেনসিটি যখন আরও বেশী বাড়বে৷

তাহলে, এবার চলুন দেখি, ব্লাড ঘনত্ব কীভাব বাড়ে?
ব্লাডকে পরিচ্ছন্ন বা ফিল্টার করে লিভার এবং ব্লাড ভলিউমকে ব্যালান্স করে রাখে, ইলোকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখে ও কিছু কিছু (Urea,Creatinine, BUN) অবান্ছিত ক্ষতিকর মেটাবলিক ওয়েস্টগুলি বের করে -কিডনি৷

প্রধান ও মুখ্য ব্লাড পিউরিফায়ার লিভার যখন — এই ফিল্ট্রেশনের কাজটা পরিপূর্ণরুপে সম্পাদন করতে অক্ষম হয়, ঠিক তখনি কিছু কিছু পরিমাণে অবান্ছিত ক্ষতিকর বস্তূগুলি হেপাটিক ভেন দিয়ে ব্লাডে মিশতে শুরু করে৷ এই প্রক্রিয়া বহুদিনযাবৎ চলতে থাকলে, এক সময় ব্লাডের ঘনত্ব এতই বেড়ে যায় যে, পোড়া মোবেলের মত ঐ রক্তগুলিকে প্রচন্ড বল প্রয়োগ করে গোটা দেহে সন্চালিত রাখতে হার্টকে হিমশিম খেয়ে যেতে হয়৷ প্রেসার বাড়াতে যতগুলি সিম্পটমস্ বা লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়— সবই এই রক্ত ঘন হওয়ার জন্য হয়৷

এক্ষনে, লিভার কেন ফিল্ট্রেশনে অপারগ হয়ে উঠল? এটা আপনাকে জানতে হবে৷

লিভারে হাজার হাজার কেমিক্যাল কাজ অনবরত চলছেই! এরই মধ্যে প্রধান ছ’টি কাজ হল—
১) ফ্যাট ডাইজেশন ও প্যাংক্রিয়াসকে রক্ষা করা৷
২)গ্লুগোজ স্টোর ও গ্লাইকোজেন জমা রাখা
৩)ভিটামিনস ও মিনারেলস জমা রাখা
৪) সমস্তরকম ক্ষতিকর বস্তূগুলিকে অক্ষতিকর (Disarming) ও নিজের মধ্যে আটক করা(Detaining)৷
৫)রক্তকে স্ক্রিনিং(Screening) করা এবং ফিল্টার করা(Filtering) ৷
৬)লিভার -এর নিজস্ব ইমিউনিটি দিয়ে পুরো দেহকে বিভিন্ন জীবানু বা ক্ষতিকর বস্তূ থেকে রক্ষা করা৷

আমরা মাতৃগর্ভ থেকেই নানা ক্ষতিকর বিষ ও জীবানু আমাদের দেহে পাচ্ছি- সেগুলি লিভারে ডিটেন হচ্ছে৷ এই বিষ ও জীবাণুটি অধিক হলে, জন্মানোর পর পরই অনেক বাচ্চার নিওনেটাল জন্ডিস পরিলক্ষিত হয়৷ বর্তমানে প্রায় ৭০% বাচ্চা ৩০% অক্ষমতা সম্পন্ন লিভার নিয়ে জন্মাচ্ছে৷ কারণ, বিভিন্ন জীবানু ও হেভি মেটালস ( পেষ্টিসাইডস, ফার্টিলাইজার, ফাংগিসাইডস, কেমিক্যালস, এন্টিবায়োটিক, এন্টিসাইকোটিক, পেট্রোকেমিক্যালস প্রভৃতি) এর এক্সপোজারে আমরা এখন সবাই বিরাজ করছি৷ কেউই কোনভাবে এই এক্সপোজার থেকে রেহাই পাচ্ছিনা৷
উপরন্তূ, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বাচ্চাটি মাতৃদুগ্ধ থেকে ,ভাত ডাল, শাকশব্জী, মাছ মাংস, চা বিস্কুট —কোন খাবারই নির্বিষ খেতে পারছেনা৷

যদিও বিষের পরিমাণটা নগন্য, তবুও দৈনিকের অল্প অল্প দেহে অনুপ্রবেশ—এক সময়( ১৫—২০ বছর) যথেষ্ট পরিমাণে লিভারে সন্চিত হচ্ছে৷ প্রত্যেক পেষ্টিসাইড এ ৬০-৭০% হেভি মেটালস থাকে( মার্কারি, আলুমিনিয়াম, কপার, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম প্রভৃতি)৷ এগুলি আমাদের দেহে খাবারের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করছে৷ কিছুটা দেহ থেকে বের হচ্ছে, কিছুটা লিভারে জমছে৷
এই একটু একটু জমাটা ,যখন লিভারকে ভারী ও কনজেষ্টেড করে তুলবে—তখনই শুরু হবে নানাবিধ সমস্যা৷ উপরন্তূ, এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে পরিবাহিত বা জীবদ্দশায় আক্রান্ত জীবানু (EBV, Shingles, Herpes,Streptococci etc) যখন ঐ একই দেহে বিরাজ করে—তখন তো পুরো খেলা শুরু হয়ে যাবে৷
হেভি মেটালসগুলি ও কিছু কিছু খাদ্যোপাদান( ফ্যাট, গ্লুটেন, GMO,MSG,Aspertame,ক্লোরিন, ফ্লুওরিন প্রভৃতি) ঐ জীবাণুগুলির ফুয়েল হিসাবে কাজ করে৷ ফলতঃ জীবাণুটির বাড়বাড়ন্ত বৃদ্ধি পেয়ে যায়৷
এই অধিকমাত্রার জীবাণু( জীবিত,মৃত,বাইপ্রোডাক্ট,করপস),বিভিন্ন কেমিক্যালস, হেভি মেটালস,ব্লাড ফ্যাট, বহুবিধ অবান্ছিত বস্তূগুলি— শেষ পর্যন্ত লিভারে জমতে জমতে লিভারকে স্লাগীশ,অভারবার্ডেন,ফ্যাটি করে তুলে৷
এই সময় — লিভারে সমস্ত কাজই সুচারুভাবে ১০০% সম্পন্ন হতে পারেনা৷ কাজের ব্যাঘাত অনুযায়ী আনুসঙ্গিক সমস্যাগুলি পরপর দেখা দিবে৷
এখানে , আমরা আলোচনা করছি প্রেসার নিয়ে৷ ব্লাড স্ক্রিনিং ও ফিল্টারিং অপর্যাপ্ত হলে, ঐ সকল বস্তূগুলি ব্লাডে ছড়িয়ে পড়বে এবং রক্তের গাঢ়ত্ব বাড়াবে৷ এই সময় প্রেসার বাড়তে থাকবে৷

আবার, যদি ক্রনিক ডিহাইড্রেশন থাকে ,তাহলে লিভারে অপর্যাপ্ত জলের জন্য লিভারে প্রচন্ড হিট তৈরী হবে—ফলে, হট ফ্লাশ, প্রচন্ড ঘাম, অস্থিরতা, হাত পা জ্বালা প্রভৃতি হবে৷ ব্লাড এ জলের পরিমাণ( প্লাজমা) কমলেও রক্তের গাঢ়ত্ব বৃদ্ধি পাবে৷

রক্ত গাঢ় হলে, বিভিন্ন অর্গানে ব্লাড ট্রান্সফিউশন ও কমবে৷ রক্তে ফ্যাট যত বাড়বে, রক্তে অক্সিজেন তত কমবে৷ রক্তে ফ্যাট যত কমবে , রক্তে অক্সিজেন তত বাড়বে৷( Blood oxygen inversely proportional to Blood Fat-
BO 1/~ BF)৷

অতএব, রক্তের ঘনত্ব বাড়লে, কিডনিতেও ট্রান্সফিউশন কমবে৷ এই সময়, RAAS( Renin Angiotensin Aldesterone System) সক্রিয় হবে৷ ফলে, ব্লাড ভেসেলস কনস্ট্রিক্ট হয়ে আরও প্রেসার বাড়াবে৷
(দ্রষ্টব্য- https://en.m.wikipedia.org/wiki/Renin%E2%80%93angiotensin_system)

বেশী বেশী বল প্রয়োগ করে কাজ করার জন্য হার্টকে পেশীবহুল হতে হয়—ফলে হার্ট বড় হয় ( LVH,RVH,Cardiomegally).

রক্ত গাঢ় হওয়ায় সহজেই জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে৷ ফলে, একটু আঘাত লাগলেই স্কিনে লাল লাল দাগ হয় ( Petechial rash) , থ্রম্বসিস, রেনডস্ সিন্ড্রোম, এথেরস্ক্লেরোসিস,ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট এটাক হয়৷

রক্ত গাঢ় হওয়ায় বিভিন্ন অর্গানে অক্সিজেন কম যাওয়ায়— ব্রেন ফগ, ক্রাম্পিং পেন, লেথার্জি, এনার্জিলেস, ডিপ্রেশন প্রভৃতি সমস্যা হয়৷

প্রেসার রোগীর লিভার কার্যকারিতাতে ৭০% এর কম পারফরমেন্স করায়—গ্যাসের সমস্যা, সুগারের সমস্যা, বাত ব্যাথার সমস্যাও থাকতে পারে৷ EBV টি লিভার থেকে বের হয়ে তৃতীয় স্টেজে থাইরয়েড গ্লান্ডে এফেক্ট করলে, থাইরয়েডের সমস্যাও হতে পারে৷
চতুর্থ স্টেজে বিভিন্ন জয়েন্ট স্পেসে জমলে, আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে গেঁটে বাতও হতে পারে৷

ফলে, ভালভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন— কোন একজন রোগী প্রেসার এ আক্রান্ত হলে, বয়সের বিভিন্ন সময় সুগার(ডায়াবেটিস),থাইরয়েড, বাত ব্যাথা, গ্যাসের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা প্রভৃতি বিবিধ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন৷

সুতরাং ,মূল জায়গা হল—” লিভারের সক্রিয় সঠিক ও পর্যাপ্ত কার্যকারিতার অভাব”৷ এবং “ক্রনিক ডিহাইড্রেশন”৷

সমাধানঃ

১) আপনি প্রেসারের ঔষধ খেয়ে থাকলে, হঠাৎ বন্ধ না করে— খাদ্য ও পাণীয় কে বিষমুক্ত করার চেষ্টা করুন৷ ধীরে ধীরে রক্ত ও লিভার বিষমুক্ত হয়ে গেলে—ব্লাডের ডেনসটি ঠিক হয়ে যাবে৷ আপনার প্রেসারও নির্মূল হবে৷
২)প্রচুর ফলাহার ও শাকাহার করুন( অর্গানিক)
বায়োএক্টিভ জল বেশী বেশী করে পাণ করুন( লেবু জল, আপেল, তরমুজ, আনারস, শশা,মৌসাম্বি, কমলা প্রভৃতি)
৩) দেহে বা লিভারে সন্চিত হেভি মেটাল বের করতে দৈনিক নিম্নের পাঁচটি খাদ্য দিয়ে “হেভি মেটাল ডিটক্স” করুন— ॰ ব্লু বেরী, ॰বার্লি গ্রাস পাউডার,॰স্প্রিলুনা,॰সিলান্ট্রো,॰এটলান্টিক ডাল্স ৷
৪)মেন্টাল রিলাক্স বা প্রশান্তিতে থাকুন৷ নেগেটিভ চিন্তা, দুঃশ্চিন্তা, ভয়, রাগ, স্ট্রেস, অহঙ্কার প্রভৃতি গুণে মনকে ব্যাস্ত রাখলে— সুপ্রারেনাল গ্লান্ড থেকে অনবরত এড্রিনালিন সিক্রেশন হয়৷ অনবরত এড্রিনালিন সিক্রেশন হলে, প্রচন্ড এসিডিক ও ক্ষতিকর এড্রিনালিন বের হয়৷ এটা দেহের প্রত্যেক কোষ অঙ্গকে ক্ষতি করবে৷ উপরন্তূ, বিভিন্ন জীবাণু এই ক্ষতিকর এড্রিনালিনে অত্যাধিক বৃদ্ধি পাবে৷ ফলে, রক্ত আরও ঘন হবে এবং হরমোনটি নিজেই প্রত্যেকটি অঙ্গ বিশেষকরে লিভার, প্যাংক্রিয়াস, স্টোমাক, কিডনি, ব্রেন প্রভৃতিকে চরম ক্ষতি করবে৷
তাই, মানসিক প্রশান্তি আবশ্যিক৷ সেটা সৃষ্টিকর্তার স্মরণ ও ভরসাতেই আনয়ন সম্ভব৷
অতএব, প্রাক্টিসিং ধার্মিকতা এবং অহিংসা,ভালবাসা বাস্তব জীবনে আনয়নে সচেষ্ট থাকতে হবে৷আবার সিম্পেথেটিক এক্টিভিটিতে ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন করেও প্রেসার বাড়ায়৷
(https://www.tandfonline.com/doi/abs/10.3109/10641968409062582?journalCode=iceh19)

৫)ব্লাড ফ্যাট কে নির্গমন ও অন্যান্য হার্মফুল বস্তূগুলি পিত্তরসের মাধ্যমে দেহ থেকে বার করতে, জীবিত জীবাণুগুলিকে ( ভাইরাস) নষ্ট করতে অলিভ লিফ এক্সট্রাক্ট ( Zaitus) নিয়মিত খেতে পারেন৷
৬) রান্নাতে তেল যতটা সম্ভব কম খাবেন, লবণ কম খাবেন৷ অলিভ অয়েল বা যায়তুন তেল রান্নাতে ব্যবহার করলে, দ্রুত সুফল পাবেন৷ কারণ, এই তেলে হাইড্রক্সটাইরেসল, অলিওরোপিন, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড প্রভৃতি নানাভাবে এন্টি অক্সিডেন্ট, এন্টিভাইরাল, এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল, লিপিড মেটাবলিজম বুষ্টিং প্রভৃতি কাজ করে৷ ফলে, যারাই এই সকল সমস্যাতে ভূগেন—তাদের জন্য যায়তুন তেল( ০.২-০.৫% এসিডিটি) বা অলিভ  অয়েল ব্যবহার প্রেসার কমাতে দারুনভাবে সহায়তা করে৷
এক্ষেত্রে, AS-SHIFA® যায়তুন বেষ্ট৷ কারণ এটি 0.2-0-5% acidity and oleoropein riched.
(বিঃদ্যঃ— এলোপেথিক এন্টি হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলি কীভাবে কাজ করে একটু দেখুন:—
Amlodipine ও এই গ্রুপের ওষুধগুলি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লক করে আর্টারি বা শিরার ক্যালিবার বাড়িয়ে দেয়৷ ফলে, যতক্ষন এর কার্যকারিতা বিদ্যমান থাকে ততক্ষন ব্লাড ভেসেলসগুলির ভলিউম বাড়ে, বিধায় প্রেসারটা কম থাকে৷ কিন্তূ, রক্তের ঘনত্বে কোন প্রভাব ফেলেনা৷
Telmisartan ও এই গ্রুপের ঔষধগুলি RAAS এ প্রভাব ফেলে ভ্যাসোকন্সট্রিকশন বন্ধ রাখে৷ ফলে, যতক্ষন ওষুধটির কার্যকারিতা থাকে, ততক্ষন প্রেসার ঠিক থাকে৷ কিন্তূ রক্ত ঘনত্বে কোন প্রভাব ফেলেনা৷
Lasix ও এই জাতীয় ঔষধগুলি রক্ত থেকে জলটা কিডনির মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ করে করে দিয়ে সাময়িক ব্লাড ভলিউম কমিয়ে আনে এবং সাময়িক প্রেসার তৎক্ষনাত কমে যায়৷ কিন্তূ, পরবর্তীতে রক্তের ঘনত্ব আরো বাড়িয়ে তুলে৷ ফলে, পরবর্তীতে প্রেসার আরও বাড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়৷)
উপরিউক্ত কোন ঔষধই প্রেসারকে নির্মূল করতে সক্ষম নয়৷
৭)তাই, প্রেসারকে নির্মূলীকরণ করতে আপনাকে আপনার মানসিক প্রশান্তি,বিষমুক্ত খাবার ও পাণীয় , প্রচুর ওয়াটারি ফ্রুট দৈনন্দিন জীবনে আনয়ন করুন৷
৮)পাশাপাশি, মাংস,ডিম, দুধ ও দুধজাত দ্রব্য, গমজাত দ্রব্য, সয়াবিন, ভূট্টা, ইনফ্লামেটরি তেল( কর্ন, ক্যানোলা, সানফ্লোয়ার, পাম তেল) এড়িয়ে চলুন৷
৯)দৈনিক ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করুন যাতে রক্তের ফ্যাটটা ইউটিলাইজড্ হয়ে ,রক্ত ঘনত্ব কমে৷ যে কোন ফিজিক্যাল এক্সারসাইজে শুধুমাত্র ব্লাড ফ্যাট ইউটিলাইজড্ হয়৷ লিভার বা বেলিতে সন্চিত ফ্যাট ব্যবহৃত হয়না৷ তবে, ব্লাড ফ্যাট কমে গেলে লিভার বা বেলির ফ্যাটসেলে সন্চিত ফ্যাট ব্লাডে চলে আসে ৷ এবং এগুলি পুণঃরায় ইউটিলাইজ হয়৷ ফলে, হাল্কা নিয়মিত ও দীর্ঘদিনের এক্সারসাইজে বেলি ফ্যাট ও লিভার ফ্যাট কমানো যায়৷

@আপনারা, প্রেসার নিয়ে আরও জিজ্ঞাসা থাকলে ওয়াটসআপ 9804105660 তে লিখে পাঠান৷ অথবা www.asshifatrust.com এ ভিজিট করে সমস্যা জানান৷@

আল্লাহ, আপনাদের সঠিক বুঝ দান করুক, সুস্থ রাখুক৷ আমীন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

11 − eight =