We are available at

কোমর ব্যাথা: প্রকৃত কারণ ও প্রতিকার

কোমর ব্যাথা : কারণ ও তার প্রতিকার

 

 ডাঃ ইয়ার আলী

The lifetime prevalence of
non-specific (common) low back pain is estimated at 60% to 70% in industrialized
countries (one-year prevalence 15% to 45%, adult incidence 5% per year). The
prevalence rate for children and adolescents is lower than that seen in adults but is
rising.2,3 Prevalence increases and peaks between the ages of 35 and 55.

“কোমর ব্যাথা” একটি উপসর্গ — যেটির অন্তর্নিহিত কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্তমান মেডিক্যাল কমিউনিটি তে অজানা! কোমর ব্যাথা প্রায়শঃ প্রত্যেক পরিবারে লক্ষ্য করা যায়৷
‘ টপ মোস্ট ‘ ১০ টি ডিজিজ এর মধ্যে কোমর ব্যাথা একটি৷ তাই, কোমর ব্যাথা নিয়ে সচেতনা ও প্রতিকারমূলক এই প্রতিবেদনটি৷

কোমর ব্যাথা তিন রকমেরঃ
১) এক্যুউট: এক্সিডেন্ট, আঘাত পাওয়া, কোমরের হাড় বা ডিস্ক ভেঙ্গে যাওয়া প্রভৃতি কারণে হতে পারে৷ এক্ষেত্রে, সার্জিক্যাল বা অপারেটিভ ম্যানেজমেন্ট করা জরুরী৷

২) সাব এক্যুউট: ক্রনিক কোমর ব্যাথায় ভুগতে ভূগতে হঠাৎ করে ব্যাথা বেড়ে যায়৷ ডিস্ক বাল্জিং বা হার্নিয়েশন প্রভৃতি কারণে হয়ে থাকে৷

৩) ক্রনিক : অধিকাংশ লোকের দীর্ঘদিন ভুগতে থাকা কোমর ব্যাথা —এই প্রকারের৷

ক্রনিক কোমর ব্যাথার মূল কারণ বা প্রকৃত কারণঃ
১) কোমরের ভার্টিব্রাল বডিতে পুষ্টি অর্থাৎ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ডি, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি ১২ প্রভৃতির পরিমাণ কমে গেলে৷ ভার্টিব্রাল বডিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে গেলে ঐ অন্চলে পুষ্টি পরিবহনকারী আর্টারি বা ওয়েস্ট ম্যাটেরিয়াল পরিবহন কারী শিরাসমূহ সচল বা সতেজ বা পরিপূর্ণভাবে খোলা থাকতে হবে৷ অর্থাৎ, ভার্টিব্রাল বডিতে সরবরাহকারী ভেসেলগুলি আংশিক বা পরিপূর্ণ ব্লক বা বন্ধ হয়ে গেলে, ঐ হাড়ে পুষ্টি সরবরাহ কম হবে বা বন্ধ হবে৷ ফলতঃ হাড়গুলি দূর্বল ( অস্টিওপোরোসিস বা অস্টিওপেনিয়া) হবে৷ দেহের ওজন বহনকারী ভার্টিব্রাল বডিগুলি , দৈহিক ওজনের চাপে বসে বা চুপসে যাবে৷ এই অবস্থায়, ভার্টিব্রাল বডির কিনারাগুলি স্পাইক বা অস্টিওফাইট তৈরী করে ৷ এই স্পাইকগুলি দুটো ভার্টিব্রাল বডির মধ্যস্থিত ফোরামেন দিয়ে যে নার্ভটি (সুষুন্মাকান্ড থেকে নির্গত হয়ে ) বের হচ্ছে, তার উপর চাপ সৃষ্টি করে৷ ফলে, ঐ নার্ভ ইরিটেশন বা ইনফ্লামেশন হয়৷ ঐ নার্ভ যে অন্চলে সাপ্লাই থাকবে, সেই অন্চলে ব্যাথা বা কনকনি, যন্ত্রনা, ঝিমঝিমিনি, কাঁমড়ে ধরা ভাব প্রভৃতি হবে৷

২) ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক পরিবর্তিত হওয়া:

দুটো ভার্টিব্রাল বডির মধ্যস্থিত ডিস্ক —ভার্টিব্রাল বডির বা শিরদাঁড়ার গদির মত বা (Shock Absorber) ৷ এরই জন্য আমরা ডানে-বামে, সামনে -পিছনে আমাদের বডিকে নড়াতে বা ঘুরাতে পারি৷
যেহেতু, পুরো শিড়দাঁড়ার মধ্যে শুধুমাত্র কোমরের হাড়গুলি আমাদের দেহের উপরের পরিপূর্ণ ভারটি বহন করে, তাই কোমরের হাড় ও ডিস্কগুলির প্রতি অনবরত ( শয়ণকাল ব্যতিত) চাপ বা স্ট্রেস থাকে; সেহেতু, কোমর ব্যাথা সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিক পরিলক্ষিত হয়৷
এই ডিস্কগুলি খুবই মজবুত ও শক্তভাবে ভার্টিব্রাল বডির সুপিরিওর সারফেস বা ইনফিরিওর সার্ফেসে এটাচ থাকে৷


ডিস্কের মূল দুটি অংশ৷ বাইরের দিকে ফাইবার জাতীয়, কোলাজেন সমৃদ্ধ (এনিউলার ফাইব্রোসাস)৷ ভিতরের দিকে শাঁসের মত , ৮০% জল সমৃদ্ধ, বিভিন্ন রকম রাসায়নিক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ( সেন্ট্রাল পালপোসাস)৷ এনিউলার ফাইব্রোসাস ও সেন্ট্রাল পালপোসাস এ কোন রকম রক্ত ধমনী বা শিরা থাকেনা ( Avascular)৷ ভার্টিব্রাল বডির ও ডিস্কের মাঝে কার্টিলেজ সমৃদ্ধ “এন্ড প্লেট” থাকে৷ এখানে ভাসকুলার প্রবাহমানতা আছে৷ এই “এন্ড প্লেট” থেকে বিভিন্নরকম পুষ্টি, ওয়াটার অসমোটিক প্রেসারে সেন্ট্রাল পালপোসাস এ পৌঁছায়৷ সেখান থেকে ফাইব্রোসাস তৈরী হয়ে থাকে৷ সেন্ট্রাল পালপোসাসটি এনিউলার ফ্রাইব্রোসাস দিয়ে ঘেরা থাকে৷

এক্ষণে, কোন কারণবশতঃ যদি “এন্ড প্লেট” থেকে সেন্ট্রাল পালপোসাসে পুষ্টি বা জল কম সরবরাহ হয় বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে ডিস্কটি শুকিয়ে যাবে বা চুপসে যাবে৷ ডিস্কের শক্তি কমে যাবে৷ ডিস্ক স্পেস ছোট হয়ে যাবে৷ ডিস্ক স্পেস ছোট হয়ে গেলে, দৈহিক ওজনের জন্য ভার্টিব্রাল বডিগুলি কাছাকাছি চলে আসবে৷ সেক্ষেত্রে, ইন্টারভার্টিব্রাল টেন্ডন বা লিগামেন্টগুলি স্ট্রেইনড বা ছিড়ে যাবে বা ল্যাক্স হয়ে যাবে৷ ফলতঃ লোকালি পেইন বা কোমর ব্যাথা হবে৷ এন্ডপ্লেটে বা ভার্টিব্রাল বডিতে ভেসেলগুলি যদি রক্তের মধ্যে বিরাজমান চর্বি,রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধিকারী প্রত্যেকটি ক্ষতিকর বস্তূ যেমন-মার্কারী, কপার, এলুমিনিয়াম, আর্সেনিক, প্যাথোজেন ও তাদের বাই প্রোডাক্ট,কীটনাশক প্রভৃতির মাধ্যমে আংশিক বা পরিপূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়; তবে ডিস্কের জল বা পুষ্টি দুটিই সরবরাহ কম হবে৷

ডিস্কে কোন রকম ব্যাকটেরিয়া( টিবি), ভাইরাস( সিন্জলস) , বা তাদের বাই প্রোডাক্ট, বিভিন্ন অক্সিডেটিভ হেভি মেটালস( মার্কারী,আর্সেনিক,কপার, এলুমিনিয়াম) প্রভৃতি প্রবেশ করলেও ডিস্কে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হবে৷ প্রদাহটি ডিস্ককে ক্ষয় করার পর ধীরে ধীরে উপর ও নিচের দিকে ভার্টিব্রাল বডিতে ছড়িয়ে পড়বে৷ ফলতঃ ডিস্ক ও ভার্টিব্রাল বডিতে ডিজেনারেশন ডিজিজ সৃষ্টি হবে৷ ডিজেনেরশন বেশী মাত্রায় হলে, ডিস্ক স্পেস শুন্য হয়ে গিয়ে দুটো ভার্টিব্রাল বডি ফিউজড্ হয়ে যাবে৷ ফলে, শিরদাঁড়া কাঠের মত শক্ত হয়ে যাবে৷ কোনরকম নড়ন চড়ন, একাত ওকাত, এপাশ ওপাশ হওয়া যাবেনা৷ ভার্টিব্রাল বডি স্টিফ হয়ে যাবে৷ এক্ষেত্রেও কোমর ব্যাথা হবে৷

এনুলার ফাইব্রোসাস দূর্বল হয়ে গেলেও সামনে বা পিছনে ডিস্কটির প্রবৃদ্ধি ঘটে যাকে ডিস্কবাল্জিং বলে৷ এটা অত্যাধিক বেশী হলে, ফাইব্রোসাস ছিড়ে যায় এবং স্পাইনাল ক্যানেলে পালপোসাসটি লিকেজ হয়৷ এক্ষেত্রে, লিকেজ হয়ে যাওয়া পালপোসাসটি শক্ত বা স্টেনোসিস বা ক্যালসিফাইড হয়ে গেলে স্পাইনাল ক্যানেলে সুষুন্মাকান্ডে বা নার্ডরুটে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে ফলতঃ ঐ নার্ভরুটটির সাপ্লায়ের অন্চলগুলিতে যন্ত্রণা, ঝনঝনি, কনকনি হবে৷ যেমন: L5 রুটে চাপ হলে পায়ের পিছনে থাইয়ে বা লেগ মাসলে যন্ত্রণা বা কনকন করে৷

অনেক সময়, ভার্টিব্রাল বডির সুসজ্জাকরণে বা এলাইনমেন্টে বা লর্ডসিসে এদিক ওদিক হলেও , একটি ভার্টিব্রাল বডি আরেকটি ভার্টিব্রাল বডির উপর স্লিপ করে সামনে বা পিছনে যায়৷ এক লিস্থেসিস বলে৷ এক্ষেত্রেও, নার্ভরুটে বা স্পাইনাল কর্ডে চাপ সৃষ্টি হয় ৷ ফলতঃ কোমর ব্যাথা হয়৷

৩) ফ্যাসেট জয়েন্টে ( দুটো পরপর ভার্টিব্রাল প্রসেস এর মধ্যে জয়েন্ট) EBV,Shingles Virus affect করলেও কোমর ব্যাথা হবে৷

৪) কোমরের মাংসপেশী, লিগামেন্ট বা টেন্ডনগুলিতে EBV,Shingles ভাইরাস বা এদের নিউরোটক্সিন বা হেভি মেটাল বা অক্সিডেটিভ ডেমেজ হলেও কোমর ব্যাথা হবে৷

৫) সিজারের জন্য পরবর্তীকালে, নার্ভরুট ইরিটেশন বা ইনফ্লামেশ বা ইনজুরীর জন্যও কোমর ব্যাথা হয়৷

তাহলে, বুঝা গেল — সব ধরণের ক্রনিক কোমর ব্যাথার মূল সূত্রপাত- বিভিন্ন প্যাথোজেন ও তাদের বাই প্রোডাক্ট, রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধিকারী প্রত্যেকটি ক্ষতিকর বস্তূ এবং বিভিন্ন নিউট্রিশনাল উপাদানের অভাব৷

রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধির মূল ক্ষেত্র লিভার , আবার যে কোন নিউট্রিশনকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর ভিনামিন বি ১২ যেটি মূলতঃ লিভারেই এক্টিভ ফর্মে পরিবর্তিত হয়৷

বিধায়, লিভার যত বেশী কনজেষ্টেড, স্লাগিশ, কম কার্যকরী হবে তত বেশী পরিমাণে ক্রনিক কোমর ব্যাথার প্রবণতা বাড়বে৷
আবার, লিভারের সক্রিয়তার সঙ্গে সরাসরিভাবে ব্লাড সুগার, হাইপ্রেসার, কোলেস্টেরল, কন্সটিপেশন, ডিসপেপসিয়া, ইনসমনিয়া, মায়েলজিয়া, নিউরোপ্যাথি, ওবেসিটি, অটোইমিউন ডিজিজ প্রভৃতি জড়িত; তাই এই সকল রোগীদের কোমর ব্যাথা থাকাটাও স্বাভাবিক৷

প্রতিকারের উপায়ঃ

১) ভার্টিব্রাল বডিতে ভেসেলসগুলি খুলে দেওয়া বা কো ল্যাটারাল ভেসেলগুলি চালু করা বা সতেজ করা সর্বপ্রথম জরুরী কাজ৷ তাছাড়া, লোকাল ইনফ্লামাটরি এজেন্টগুলি নিষ্কাষণ করার জন্য, অবশ্যই হিজামা করতে হবে৷

২)নিউট্রিশন ঠিক করতে লিভারকে ডিটক্সিফিকেশন করতে হবে৷ এবং ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, প্রভৃতি খেতে হবে৷

৩) বাল্জিং ডিস্ক বা হার্নিয়েশনে অবস্থা বুঝে ব্যায়াম করতে হবে ( শুধুমাত্র সিম্পটম্পস কমানোর জন্য কিছুটা উপকারী)৷

৪)ভার্টিব্রাল বডির পস্চার বা উঠা বসা ঠিক রাখতে হবে৷

৫) ব্যাথা নাশক মেডিসিন , নার্ভ পেন মডিলেটিং এজেন্ট সিম্পটমস কমাতে গ্রহণ করতে হবে৷

৬) ভারী বস্তূ বহন করা যাবেনা৷

৭) হিজামা অসুখের মাত্রানুযায়ী ১-৩ বার করতে হতে পারে৷ বিশেষজ্ঞ বা কোয়ালিফাইড প্রাকটিশনারের কাছে হিজামা করতে হবে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published.

18 + 8 =