We are available at

গেঁটে বাত বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস—প্রকৃত রহস্য !

গেঁটে বাত বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস—প্রকৃত রহস্য
ডাঃ ইয়ার আলী , ক্রনিক রোগ অভিজ্ঞ ও হলিস্টিক প্রাকটিশনার

আমাদের জীবনে যত ধরণের ক্রনিক অসুখ দেখা দেয়, তারমধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে যে অসুখটি লক্ষণীয়, সেটি হল—গেঁটে বাত বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস৷ আমাদের দেশ তথা বিশ্বে এর রেট .৫—১ শতাংশ ( জণগণের সংখ্যার নিরিখে)৷ প্রিভেলেন্স প্রায় .৭৫% ৷ এছাড়াও, নন রেজিস্টার কেস আরও অনেক৷ প্রায় অধিকাংশ পরিবারেই এই সমস্যা যত সময় গড়াচ্ছে, ততই বেশী পরিমাণে লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷

প্রধানতঃ হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলো বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে৷ এছাড়াও, অন্য সকল জয়েন্ট ( হাঁটু, কোমর,ঘাড়, সোল্ডার প্রভৃতি) আক্রান্ত হয়েই থাকে৷ প্রাথমিকভাবে, জয়েন্টে যন্ত্রনা হয়৷ একটু ফুলে যায়৷ ধীরে ধীরে জয়েন্টের কার্টিলেজ, বোন ক্ষয় হতে শুরু করে৷ তখন জয়েন্টের মুভমেন্ট বা চলাচলে সমস্যা হয়৷ আরও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জয়েন্টের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নিঃশেষ হয়ে গেলে ফিউজড হয়ে যায়৷ সেক্ষেত্রে, জয়েন্ট শক্ত হয়ে গিয়ে, বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে যায়৷ হাঁটাচলা, কাজকর্ম কিছুই করতে পারেনা৷ পুরো বডি স্টিফ হয়ে যায়৷

আমরা এই রোগ নিয়ে বহু ডাক্তার, ক্লিনিক, হাসপাতাল, সর্বত্র পাক মেরে মেরেও সর্বশান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিরোগ আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনা৷ অনেক রিউমাটোলজিস্ট দেখিয়েও রোগ থেকে মুক্তি পাইনা৷ আমরা জীবনটাকে ভারী মনে করি৷ আমার অভিজ্ঞতা ও দেখা অনুযায়ী, অনেক রোগীকে আত্মহত্যা করতেও দেখেছি৷ জীবনটা সত্যিই দূর্বিষহ হয়ে উঠে৷

কিন্তূ, আমরা কেন বিশ্বাস করতে পারছিনা যে, আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠান না যার কোন চিকিৎসা নাই; শুধু মৃত্যু বাদে৷ যখন দেহের কোন  সমস্যার সঠিক ও সত্য কারণ উদ্ঘাটন করার পর, সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হবে তখন অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছায় দেহের ঐ সমস্যা দূরীভূত হবে৷ তাহলে, গেঁটে বাতের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছেনা কেন???

মনে কখনও জিজ্ঞাসা আসেনা???

আপনি জয়েন্টের যন্ত্রনা নিয়ে ক্লিনিকে গেলে, রিউমাটয়েড বাত ডায়াগনোসিস করার জন্য ডাক্তারবাবু কতকগুলি সূত্র বা তত্ব( ACR , EULAR) অনুযায়ী আপনার বিভিন্ন আনুসঙ্গিক লক্ষন অনুসন্ধান করেন৷ ব্লাডের পরীক্ষার মাধ্যমে (ESR,CRP,Anti CCP,ANA RA প্রভৃতি ) রিউমাটয়েড বাত ডায়াগনোস করেন৷ জয়েন্টের হাড়ক্ষয়ের অবস্থা দেখতে এক্স রে বা MRI করেন৷ ডাক্তারবাবু রোগ নির্ণয়ের পর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে আপনার জয়েন্টের যন্ত্রনা কমিয়ে রাখেন৷ জয়েন্টের মধ্যে সার্বক্ষনিক প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমিয়ে রাখতে NSAIDS, STEROID,Disease modifying agent,Immuno suppressant প্রভৃতি ওষুধ দিয়ে সাময়িকভাবে পেইন বা ফুলা কমানো সম্ভব হয়৷ কিন্তূ, ওষুধ বন্ধ করলেই ব্যাথা আগের থেকে বেশী হয়ে যায়৷ অনেক সময়, ওষুধ চলতে চলতেই বিভিন্ন জয়েন্টের যন্ত্রনা বৃদ্ধি হয়৷  এ এক দূর্বিষহ জীবন হয়ে উঠে৷

রিউমাটয়েড বাতকে সবরকম মেডিক্যাল কমিউনিটি( এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানি, ফিজিওথেরাপি, এক্যুপাংচার, ম্যাসেজ থেরাপি প্রভৃতি) অটো ইমিউন ডিজিজ হিসাবে বিশ্বাস করে৷ কারণ, RAfactor,Anti CCP,ANA এন্টিবডি তৈরী হয়৷ সকল রোগের বা ইনফেকশনে এন্টিবডি তৈরী হয় জীবাণু বা ইনভেডারের বিরুদ্ধে৷ যাতে ঐ এন্টিবডি ইনভেডারকে ঝুঝতে পারে৷ যতটা সম্ভব দেহের কোষগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া যায়৷ ইনভেডারের আক্রমন ও ক্ষতি থেকে দেহকে রক্ষা করা যায়৷ কিন্তূ, অটো ইমিউনিটির ক্ষেত্রে, এন্টিবডি কেন তৈরী হল ব্যাখ্যা করতে না পেরে; ঐ এন্টিবডি দেহেরই নিজের হেল্দি কোষগুলিকে আক্রমন করে ধ্বংশ করে—এমন তত্ব খাড়া করা হল৷ নিজ দেহকেই বা নিজের ইমিউনিটিকেই (যেটা কিনা সর্বক্ষেত্রে দেহকে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ করছে জীবাণুর বা ইনভেডারের বিরুদ্ধে) দোষী সাব্যস্ত করা হল৷ প্রকৃতপক্ষে, আমাদের দেহ কক্ষনই নিজের দেহকে ক্ষতি করেনা বা নিজেকেই আক্রমন করেনা৷ এই চূড়ান্ত সত্যটাকে অটো ইমিউনিটির ক্ষেত্রে অস্বীকার করা হল৷ অটো ইমিউনিটি থিওরি একটা তত্ব; ফ্যাক্ট কক্ষনই নয়৷ এই ভ্রান্ত তত্বের ভিত্তিতে রিউমাটয়েড বাতের চিকিৎসা করতে গিয়ে পূরা চিকিৎসাটাই রোগীর বারটা বাজিয়ে দিল৷
(অটোইমিউনিটি ভূল তত্ব পড়ুন—https://asshifatrust.com/2019/11/05/auto-immunity-is-not-reality/)

1950 সালের আগে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ছিলনা বললেই চলে! সেই সময় বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যাথার কারণ হিসাবে হরমোন দায়ী মনে করে—এর উপর অনেক গবেষণা হয়েছিল৷ কিন্তূ ফল হয় নি৷ এখন অটোইমিউনিটিকে কারণ মনে করে বিভিন্ন এন্টিবডির উপর গবেষণা চলছে৷ নতুন নতুন ইমিউনো-সাপ্রেসান্ট ওষুধ প্রয়োগ হচ্ছে৷ তথাপি, রিউমাটয়েড বাত আগের থেকে বীভৎস ও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে৷

উপরন্তূ, ইমিউনোসাপ্রেসন্ট বা ডিজিজ মডিফায়িং এজেন্ট (সালফাসালাজিন, মেথট্রক্সেট ইত্যাদি)বা স্টেরয়েড ব্যবহারে দুটো ক্ষতি হল—
প্রথমতঃ মূল যে কারণের জন্য রিউমাটয়েড বাত , সেটি উপেক্ষিত থাকল এবং তার বিরুদ্ধে আমাদের দেহের ইমিউনিটি যে সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ইনভেডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল—সেটা দূর্বল করে দেওয়া হল৷
দ্বিতীয়তঃ ইনভেডারটি দূর্বল ইমিউনিটির সুযোগে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলল৷ এবং পরবর্তীকালে আরও শক্তিশালী হয়ে অসুখটিকে বৃদ্ধিই করল৷

আবার, NSAIDS গুলোর অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তো আছেই৷

তাহলে, প্রকৃতপক্ষে কোন কারণে ,কীভাবে বিভিন্ন জয়েন্টে অসুখগুলি তৈরী হল???

বর্তমানে প্রায় ৯০% লোকের মধ্যে EBV জীবানুর এক বা একাধিক স্ট্রেইন কোন না কোন স্টেজে বিদ্যমান৷ এটা সবুজ বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও সর্বোপরি রেডিয়েশনের ব্যপক ব্যবহার এবং GM ফুডের বাড়বাড়ন্তের পরে এই ভাইরাসটি শক্তিসন্চার করেছে এবং আগের থেকে শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হয়েছে৷ ভাইরাসটি হেভি মেটালস মার্কারী,কপার,এলুমিনিয়াম,ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক প্রভৃতি ; রেডিয়েশনের তেজস্বিকণার  উপস্থিতিতে ভাইরাসটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে৷ প্রায় ৬০ রকমের স্ট্রেইন আছে৷ বিভিন্ন স্ট্রেইন বিভিন্ন অসুখের মাত্রা, ব্যাপকতা ভিন্নমাত্রায় তেরী করে৷ যে স্ট্রেইনগুলি মার্কারীকে বেশী পছন্দ করে এবং শক্তিবৃদ্ধি করে—সেগুলি চতুর্থ স্টেজে গিয়ে বিভিন্ন জয়েন্ট স্পেসে ইনফিল্ট্রেট করে৷ আর যেগুলি কপারকে বেশী পছন্দ করে সেগুলি জয়েন্ট ছাড়াও স্কিনের নিচে বিশেষধরণের ডার্মাটোটক্সিন তৈরী করে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস তৈরী করে৷

প্রথম স্টেজে স্ট্রেইন অনুযায়ী এসিম্পটোম্যাটিক থেকে কিসিং ডিজিজ তৈরী করে৷ লিভারে ডর্মমান্ট হিসাবে অবস্থান করে৷
দ্বিতীয় স্টেজে লিভারে জমে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল ও বিভিন্ন রাসায়নিকের সাহায্যে ভাইরাসটি দ্রুতহারে বৃদ্ধি পেতে থাকে৷ লিভারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হয়৷ ডেড ভাইরাস করপস  ও  মার্কারী মিলিত হয়ে যৌগ তৈরী করে৷ সেটি রক্তে ফিলামেন্ট লাইক বা জেলি লাইক সাবসটান্স তৈরী করে৷ ফলে, হার্টের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ভালবে আটকে গেলে প্যালপিটেশন শুরু হয়৷ এই স্টেজে গ্যাসের সমস্যা, হজমের সমস্যা, বডি হিট হওয়ার সমস্যা, পিত্তথলির সমস্যা বা পিত্তপাথরের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ আরেকটু স্ট্রং স্ট্রেইন হলে ভাইরাসটি ফিমেল হরমোনের আসক্তিতে মেয়েদের তলপেটে অবস্থান করে৷ ভাসকুলার ও লিম্ফ্যাটিক পরিবহনের মাধ্যমে৷ ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন , এল এইচ প্রভৃতি ফিমেল হরমোন প্রতিমাসে প্রতিনিয়ত ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অর্গানে ফ্লাকচুয়েট করে বিধায়  অভারি,এন্ডোমেট্রিয়াম , এডনেক্সা তে ভাইরাসটি দ্রুত বেড়ে উঠে এবং মেয়েদের সবরকম গাইনি সমস্যা তৈরী করে৷ সহায়ক হিসাবে বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়া ও ফাংগাস থাকতে পারে৷
তৃতীয় স্টেজে থাইরয়েড গ্রন্থিতে আক্রমন করে৷ এই অবস্থায় লিভার কনজেস্টেড বা অভারবার্ডেন থাকবেই৷ ফলে লিম্ফ্যাটিক কনজেশন তৈরী হবে৷ ওজন বাড়বে বা পা ফুলবে৷ মার্কারী ও ডেড ভাইরাস মিলে নিউরোটক্সিন তৈরী করে ৷ সেগুলি বিভিন্ন পেরিফেরাল নার্ভগুলি ইনফ্লেইম করে৷তখন পা হাতের মাংশপেশী বা নার্ভের যন্ত্রনাও থাকতে পারে৷ এছাড়াও, লিভার তার স্বাভাবিক কাজকর্মের ছন্দে না থাকলে, বহু রকম বায়ো কেমিক্যাল পরিবর্তন হয়৷ সেই অনুযায়ী সিম্পটমসও লক্ষিত হয়৷
চতুর্থ স্টেজে ভাইরাসটি এতসংখ্যক ও এত শক্তিশালী হয় যে, ভাসকুলার পরিবহনের মাধ্যমে, লসিকা পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন জয়েন্টে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়৷ যখন ভাইরাসটি চতুর্থ স্টেজে পৌঁছিবে, তখন পূর্বের সকল স্টেজের সমস্যা থাকতে পারে৷ আবার, যদি পূর্বের কোন স্টেজ থেকে পরবর্তী স্টেজে একসঙ্গে পরিপূর্ণরূপে সকল ভাইরাস রূপান্তর হয়, তখন পূর্বের স্টেজের সমস্যা না থাকতেও পারে৷ আবার কোন স্টেজ স্কিপ করে গেলেও , সেই স্টেজের সমস্যা না থাকতে পারে৷

তাহলে, মূল ইনভেডার ইপ্সটেইন বার ভাইরাস (EBV) ৷ এর সঙ্গে কো-ফ্যাক্টর  স্ট্রেপটোকক্কাই ব্যাকটিরিয়া সর্বদা থাকবে৷ দেহের যে কোন অর্গানে এরা একসঙ্গেই থাকবে৷ একটা বৃদ্ধি পেলে আরেকটিও বৃদ্ধি পাবে৷ এদের জন্য হেভি মেটালস, রেডিয়েশন, DDT, ও অন্যান্য বিষাক্ত কেমিক্যাল বা লিভার ট্রাবলমেকার ( প্রায় ২২ রকমের) পুষ্টি হিসাবে কাজ করে৷ ফলে, উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতি পেলে তবেই একজন EBV যুক্ত ব্যক্তি রিউমাটয়েড বাতে আক্রান্ত হবে৷

চিকিৎসাঃ

  রোগটি যেমন খুবই জটিল ও ক্রনিক, তেমনি এটিকে সারিয়ে তুলতেও অনেক মেহনত ও পরিশ্রম দরকার৷ গুরুত্ব ও ক্রমানযায়ী বিভিন্ন দিকগুলি তুলে ধরা হল ৷ ( বিঃ দ্রঃ— চিকিৎসা ও আর্টিকলটি হেল্থ এডুকেশনের জন্য৷ আনস্কিল ও অডাক্তাররা প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন না)

১) মনের মধ্যে লালিত বিশ্বাস যে, অসুখটি বা রিউমাটয়েড বাত অটোইমিউনিটির জন্য অর্থাৎ আমার দেহ আমাকেই ক্ষতি করছে—এটি মুছে ফেলতে হবে৷ আল্লাহ রোগ দিয়েছেন, আল্লাহর ইচ্ছাতেই সঠিক ও সত্য ওষুধ প্রয়োগে ঠিক হয়ে যাবে—এই বিশ্বাস দৃঢ় করা৷
২) ইমিনিটি সাপ্রেসান্ট ও ডিজিজ মডিফাইং এজেন্ট যেমন- SAZO, HCQS,METHOTRAXATE প্রভৃতি এড়িয়ে চলা৷
৩)স্টেরয়েড যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া বা না গ্রহণ করা৷ NSAIDS ব্যাথা নিরসনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷ তবে, সীমিত পরিমাণে৷
৪)EBV কে শক্তিযোগান দানকারী খাদ্যগুলি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া৷ যেমন—ডিম,দুধ ও দুধজাতীয় দ্রব্য,গমজাতীয় দ্রব্য,মাংস, সয়াবিন,সাদাতেল,ভূট্টা,চিনি, এসপার্টেম, মনোসোডিয়াম গ্লুকামেট, GMO ফুডস প্রভৃতি৷
৫)হেভি মেটালস যুক্ত খাদ্য পরিহার করা৷ সমস্ত পেস্টিসাইড, ফাঙ্গিসাইড, হার্বিসাইড প্রভৃতি৷
৬)প্রাকৃতিক ব্যাথা নিরসনকারী যেমন- কারকিউমিন, নেটল লিফ,টারমারিক,N acetyl Cystine,MSM প্রভৃতি নির্দিষ্ট ডোজে নিয়মিত ব্যবহার করলে বিভিন্ন জয়েন্টের প্রদাহ কমে ও ফুলা কমে৷ অথচ, এগুলি ইমিউনিটি সাপ্রেশন করেনা বরং ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে৷ তবে, ফলাফল ধীরে ধীরে পাওয়া যাবে৷
৭) পেইন ও ফুলা কমানোর জন্য— কোল্ড ও হট প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে৷ পেইনফুল জয়েন্টগুলিতে প্রথমে ২০-৩০ মিনিট ধরে কোল্ড প্রেস করলে জয়েন্টের প্রদাহ প্রশমিত হয় এবং জয়েন্টের হিলিং দ্রুত হয়৷ এরপর, হট প্রেস দিলে( ১০ মিনিটের জন্য) ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টের আশেপাশের লিগামেন্ট ও মাশলের টেনশন হ্রাস পায়৷ ফলে, যন্ত্রনা কমে৷
৮)কিছু কিছু ফল ও শব্জী EBV কে দেহ থেকে দূরীভূত করতে সহায়তা করে৷ এগুলির ৩-৪ টি দৈনিক নিয়ম করে খেতে হবে৷ যেমন—Wild Blueberries,Celery,Sprouts,Asparagus,
SpinachCilantro,Parsley,Coconut oil, EVOO,Garlic,Ginger,Raspberries,Lettuce,Papayas,Apricots,Pomegranates,Grapefruit,kale,
Sweet potato,cucumber,Fennel প্রভৃতি৷
৯)হিলিং হার্বস ও ফুড সাপ্লেমেন্টঃ
গুরুত্বানুসারে পরপর নামগুলি উল্লেখ করা হল—
* Cat’s Claw-reduces EBV and co factor strep A and strep B
* Silver Hydrosol -lowers EBV load
* Zinc
* Vitamin B12
* Licorice root-lowers EBV production
* Lemon Balm-Kills EBV
* 5 MTHF
* selenium
* L lysine
* Red marine algae – antiviral and heavy metal remover
* Spriluna-eliminates heavy metals
* Ester-C flushes EBV toxins from liver
* Star anise-destroy EBV in liver
* curcumin-component of turmeric

এগুলির ২-৩ টা কম্বাইন করে ডেইলি নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে৷ ডোজ ডাক্তারবাবু ঠিক করে দিবেন৷ রোগের প্রকোপ ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে৷

১০) হেভি মেটালস ডিটক্স ঃ

*ব্লু বেরি, সিলান্ত্রো,স্প্রিলুনা,বার্লি গ্রাস পাওডার, এটলান্টিক ডাল্স —এই পাঁচটি খাবার দৈনিক নির্দিষ্ট মাত্রায় খেতে হবে৷ লিভারে, নার্ভে, ব্লাডে বা অন্যান্য অঙ্গের যেখানেই হেভি মাটালস থাকুক না কেন—ধীরে ধীরে দেহ থেকে নির্গত হবে৷

১১) 28 days Healing and cleanse Diet chartঃ

উপরিউক্ত পন্থাতে রোগী ৬০-৭০% সুস্থ হলে, এই খাবারের চার্টটি মানতে হবে৷ চার্টটি এখানে দেওয়া গেলনা৷ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে৷

উপরিউক্ত সকল পদ্ধতির পাশাপাশি জয়েন্টের মধ্যে বিদ্যমান ভাইরাস ও হেভিমেটালস তাৎক্ষনাৎ কিছুটা হলেও নির্গত করতে হলে—হিজামার কোন বিকল্প নাই৷ হিজামা নির্দিষ্ট নিয়মে ও পদ্ধতিতে ইনফ্লেম্ড জয়েন্টে প্রায়োরিটি অনুযায়ী করলে, রোগীর ব্যাথা তৎক্ষনাত চলে যাবে৷ তবে, মেইন কালপ্রিটকে লিভার, ব্লাড থেকে নির্মূল করতে উপরের নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে৷ যদি কোন রোগী যত্ন সহকারে সকল প্রকার নিয়ম পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তবে ইনশাল্লাহ অবশ্যই রোগীটি তার জটিল রোগটি থেকে নিস্কৃতি পাবেন৷ আপনি আপনার ইমিনিটি সিস্টেম রিকোভারি করবেন, EBV থেকে মুক্ত হবেন, পুরো দেহটি রিজুভিনেট হবে, এবং আপনি আপনার দেহের সক্ষমতার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন ও আস্থা ফিরে পাবেন৷

রোগটি থেকে সুস্থ হতে কত সময় লাগবে—সেটা প্রত্যেক রোগী ও তার দেহে বিদ্যমান বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল৷ কেউ কেউ EBV কে ৩ মাসে পরাজিত করেন৷ আবার, কেউ কেউ ৬—১৮ মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে৷ তবে, যুদ্ধে জয় হবেই ইনশাল্লাহ৷

Leave a Comment

Your email address will not be published.

five × 4 =